আবুল কাশেম, রামু;
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু বাইপাস ফুটবল চত্বর এলাকায় প্রধান সড়কের ওপর দীর্ঘসময় ধরে বিভিন্ন যানবাহন পার্কিং করায় ভয়াবহ যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ বেড়ে চলেছে।
রামু বাইপাসের ফুটবল চত্বরটি কক্সবাজারগামী ও কক্সবাজার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতকারী যানবাহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগস্থল। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও সীমান্তবর্তী শহরে চলাচলকারী অসংখ্য বিলাসবহুল বাসের টিকিট কাউন্টারও এই এলাকায় অবস্থিত।
এছাড়া ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক আরাকান সড়কটি রামু বাইপাস ফুটবল চত্বরের সঙ্গে সংযুক্ত। উপজেলার ৬ থেকে ৭টি ইউনিয়নের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনও মূলত এই সড়ক দিয়েই পরিচালিত হয়। ফলে এলাকাটি সবসময়ই যানবাহন ও মানুষের ব্যাপক চলাচলে ব্যস্ত থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে মিনি ট্রাক, পিকআপ, বাস, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন মালবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন দীর্ঘসময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে মহাসড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল হয়ে যায় এবং সড়কটি কার্যত একটি সরু গলিতে পরিণত হয়।
একদিকে পার্কিং করা যানবাহনের দীর্ঘ সারি, অন্যদিকে ফুটবল চত্বরের ত্রিভুজাকৃতির আইল্যান্ড—সব মিলিয়ে চলাচলরত যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে একে অপরকে অতিক্রম করতে হয়। এর ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পাশের নাহার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা গাড়ির লাইন, কক্সবাজারমুখী যাত্রী পরিবহনের জন্য অপেক্ষমাণ সিএনজি স্ট্যান্ড এবং বিভিন্ন যানবাহনের এলোমেলো চলাচলের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘসময় ধরে পার্কিং করা যানবাহনের আড়ালে কিছু অসাধু ব্যক্তি ময়লা-আবর্জনা ফেলাসহ খোলা স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করছে। এতে এলাকাটি দুর্গন্ধময় পরিবেশে পরিণত হয়েছে এবং জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
এছাড়া মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টে অঘোষিত টার্মিনালের মতো করে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলেও চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী রামু সরকারি কলেজ, টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, রামু পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মানারাতুল উম্মাহ মডেল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এ পথ দিয়ে যাতায়াত করছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, পার্কিং করা যানবাহনের আশপাশে অবস্থানরত কিছু শ্রমিকের কারণে শিক্ষার্থীরা মাঝে মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির শিকারও হচ্ছে।
এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত যানজট সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রামুর সচেতন নাগরিকরা মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল থেকে অঘোষিত যানবাহন টার্মিনাল অপসারণ, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
